Tuesday, 24 March 2015

"""""""" অমলবাবুর রবিবারের দিনলিপি """"""

"""""""" অমলবাবুর রবিবারের দিনলিপি """"""
আজ রবিবার তারাতারি বিছানা থেকে উঠতে হবে, নাতনিকে নাচের স্কুলে নিয়ে যেতে হবে। অবশ্য অমলের এখন প্রতিদিন-ই ছুটির দিন। রান্না ঘর থেকে বৌমার লুচি ভাজার গন্ধ বেরোচ্ছে। রবিবার বাড়ির সবার সঙ্গে বসে অমলেরও লুচি আর কালো জিরে দিয়ে সাদা সাদা করে আলুর চচ্চড়ি এবং শেষ পাতে দুপিস কালাকাঁধ সন্দেশ খেতে খুব ইচ্ছে করে। অমলের আলু এবং ঘিয়ে ভাজা জিনিস খাওয়া বারন, আর মিষ্টি তো একেবারেই নিষেধ। বৌমা শুখনো মুড়ি আর শশা দিয়ে গেল...। এখন দাঁত টাও বেইমানি করছে শশা চিবতে আসুবিধা হয়। ছেলে সাত সকালে বাজারে গেছে, হাজীর মাংসের দোকানে বিরাট লম্বা লাইন। মনে পড়ে সেই সব দিনের কথা সেও ছিল রবিবার দুপুর। মিনতি খাসির মাংসটা রাঁধতো ভারী সুন্দর। রবিবার দুপুর মানেই কাগজি লেবু দিয়ে পাঁঠার ঝোল আর পুদিনার চাটনী। অবশ্য বেশ কিছুদিন হ'ল ডাক্তারবাবু অমলকে খাসির মাংস খেতে বারন করেছেন। ছেলের অবশ্য সেসব দিকে ভীষন নজর, বাবার জন্য চারা পোনা নিয়ে আসবে...বৌমার আবার নজর ততোধিক...। বাবার জন্য পেপে দিয়ে পাতলা করে চারা পোনার ঝোল করে দেবে।
বিকেলে অমল এক কাপ চিনি ছাড়া লিকার চা খেয়ে পাড়ার শীতলা মাতার মন্দিরে কির্তণ শুনতে যাবে। তবে ৭টা নাগাদ বৌমা গিয়ে নিয়ে আসবে... আজকাল সন্ধ্যার পর রাস্তা পার হতে ভয় হয়। বাড়িতে এসে অন্ধকার ঘরে চুপ করে শুয়ে থাকতে হয়, টি ভি দেখতে ইচ্ছে করলেও উপায় নেই...চোখ দুটো আজকাল বেশ জ্বালাতন করছে। নাতনির গানের গলাটি বেশ মিষ্টি, পাশের ঘরে বৌমা তার মেয়েকে গান শেখাচ্ছে, বৌমার গলাটিও বেশ মধুর.... ওরা দুজনে গাইছে
মধুর, তোমার শেষ যে না পাই প্রহর হল শেষ--
ভুবন জুড়ে রইল লেগে আনন্দ-আবেশ ॥
দিনান্তের এই এক কোনাতে সন্ধ্যামেঘের শেষ সোনাতে
মন যে আমার গুঞ্জরিছে কোথায় নিরুদ্দেশ ॥
ড্রইং রুমে ছেলের ক'জন বন্ধু এসেছে, ওরা বর্তমান বাজার দর আর রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় মগ্ন। ঘরের হালকা আলোয় অমলের চোখ গিয়ে পড়লো দেয়ালে টাঙ্গানো মিনতির ফটোর দিকে। মাত্র পয়তাল্লিশ বছর বয়সে চলে গিয়েছিল মিনতি, সত্যিই সুন্দরী ছিল মিনতি। ফটোতে মানুষের বয়স বাড়ে না.....কি সুন্দর হাসিমুখে তাকিয়ে আছে অমলের দিকে। ভাবখানা এমন যেন--- "কি গো কেমন জব্দ ?" অমল জবাব দেয়, "গিন্নি, তুমি ভেবেছিলে আমাকে আচ্ছা জব্দ করবে, আমি বিপদে পরবো? কিন্তু তুমি হেরে গেছো, এই দেখ আমি কেমন বিন্দাস আছি।" আর এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ দুটো ভিজে এলো।

No comments:

Post a Comment