”” জন্মদিনে “”””
মনে আছে তোমার?
আমাদের সেই পাগলামীর দিনগুলো....... ?
সেদিন ছিল তোমার জন্মদিন।
জন্মদিনে কিই বা দেব তোমায়?
বাউন্ডুলে ছেলেটার না ছিল রুজি, না ছিল রোজগার।
অথচ প্রাণে ছিল সাতসাগর ভরা ভালবাসা...।
তাই ঠিক করলাম বেলপাহাড়ির জঙ্গলে
একটা জ্যান্ত পাহাড় উপহার দেব তোমায়।
যেমন কথা তেমনি কাজ।
বেরিয়ে পড়লাম দুজনে, খালি হাতে।
তুমি বললে সেই ভাল,
কি হবে শহরের জঞ্জালগুলো বয়ে নিয়ে?
ধূমপানের ধোঁয়া চিরদিন অসহ্য ছিল তোমার কাছে;
সেই তুমিই কিনা বেলপাহাড়ির হাটে,
শরতের কাঁচা রোদমেখে বলেছিলে, ‘মহুয়া খাবো’,
কি যেন নাম ছিল মেয়েটার? চাঁদমনি সোরেন?
বাশের মাচার বেঞ্চিতে বসে শিশুর মত পা দোলাতে দোলাতে
সে পরম মমতায় ঢেলে দিচ্ছিল মহুয়া.
কলসি থেকে শালপাতার বাটিতে।
আর শহুরে ফুচকা খাওয়ার ঢঙ্গে ...
চুক চুক করে পান করে যাচ্ছিলে তুমি সেই সুধা রস।
সঙ্গে চালের রুটি আর হাঁসের মাংস।
না, কোন পাঁচতারা হোটেলে ক্যান্ডেল ডিনার নয়;
বাঁশের মাচায় বসে মহুয়ার সঙ্গে হাঁসের মাংস......।
পরে চাঁদমনিকে জড়িয়ে ধরে তোমার সে কি নাচ ......।
এই তুমিই নাকি বানীপুর ইস্কুলের রাসভারী অঙ্কের দিদিমনি?
আস্তে আস্তে বেলা পরে আসে।
আমি বলি এবার চল পাহাড় নেবে না ?
জড়ানো গলায় টালমাটাল পায়ে
তুমি আমার দুদিন চান না করা গায়ে......
বাসি জামার 'পরে মাথা রেখে বলেছিলে......,
‘তোমার গায়ে সিগারেট আর ঘামের গন্ধ মিলে কি সুন্দর সুবাস!’
আমি বললাম, ‘দূর পাগলী, ঘামের গন্ধ আবার সুবাস হয় নাকি?
তার চেয়ে ওই দেখ, দূরে দুটো পাহাড় কি সুন্দর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।
ওর মধ্যে কোনটা তুমি নেবে বলো,
আমি এক্ষনি তোমাকে এনে দেব সেই পাহাড়টা।’
তুমি আমাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরে বুকের ওপর মাথাটা রেখে
আমার মুখে হাত রেখে বললে......।,
‘শ্ শ্ শ্ শ্ চুপ, একদম কথা বলো না, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কোথায়?
দেখছ না...... ছোট পাহাড়টা বড় পাহাড়টাকে
কি সুন্দর ভাবে জড়িয়ে ধরে ওর বুকের উপর মাথা রেখেছে।‘
আমাদের সেই পাগলামীর দিনগুলো....... ?
সেদিন ছিল তোমার জন্মদিন।
জন্মদিনে কিই বা দেব তোমায়?
বাউন্ডুলে ছেলেটার না ছিল রুজি, না ছিল রোজগার।
অথচ প্রাণে ছিল সাতসাগর ভরা ভালবাসা...।
তাই ঠিক করলাম বেলপাহাড়ির জঙ্গলে
একটা জ্যান্ত পাহাড় উপহার দেব তোমায়।
যেমন কথা তেমনি কাজ।
বেরিয়ে পড়লাম দুজনে, খালি হাতে।
তুমি বললে সেই ভাল,
কি হবে শহরের জঞ্জালগুলো বয়ে নিয়ে?
ধূমপানের ধোঁয়া চিরদিন অসহ্য ছিল তোমার কাছে;
সেই তুমিই কিনা বেলপাহাড়ির হাটে,
শরতের কাঁচা রোদমেখে বলেছিলে, ‘মহুয়া খাবো’,
কি যেন নাম ছিল মেয়েটার? চাঁদমনি সোরেন?
বাশের মাচার বেঞ্চিতে বসে শিশুর মত পা দোলাতে দোলাতে
সে পরম মমতায় ঢেলে দিচ্ছিল মহুয়া.
কলসি থেকে শালপাতার বাটিতে।
আর শহুরে ফুচকা খাওয়ার ঢঙ্গে ...
চুক চুক করে পান করে যাচ্ছিলে তুমি সেই সুধা রস।
সঙ্গে চালের রুটি আর হাঁসের মাংস।
না, কোন পাঁচতারা হোটেলে ক্যান্ডেল ডিনার নয়;
বাঁশের মাচায় বসে মহুয়ার সঙ্গে হাঁসের মাংস......।
পরে চাঁদমনিকে জড়িয়ে ধরে তোমার সে কি নাচ ......।
এই তুমিই নাকি বানীপুর ইস্কুলের রাসভারী অঙ্কের দিদিমনি?
আস্তে আস্তে বেলা পরে আসে।
আমি বলি এবার চল পাহাড় নেবে না ?
জড়ানো গলায় টালমাটাল পায়ে
তুমি আমার দুদিন চান না করা গায়ে......
বাসি জামার 'পরে মাথা রেখে বলেছিলে......,
‘তোমার গায়ে সিগারেট আর ঘামের গন্ধ মিলে কি সুন্দর সুবাস!’
আমি বললাম, ‘দূর পাগলী, ঘামের গন্ধ আবার সুবাস হয় নাকি?
তার চেয়ে ওই দেখ, দূরে দুটো পাহাড় কি সুন্দর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।
ওর মধ্যে কোনটা তুমি নেবে বলো,
আমি এক্ষনি তোমাকে এনে দেব সেই পাহাড়টা।’
তুমি আমাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরে বুকের ওপর মাথাটা রেখে
আমার মুখে হাত রেখে বললে......।,
‘শ্ শ্ শ্ শ্ চুপ, একদম কথা বলো না, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কোথায়?
দেখছ না...... ছোট পাহাড়টা বড় পাহাড়টাকে
কি সুন্দর ভাবে জড়িয়ে ধরে ওর বুকের উপর মাথা রেখেছে।‘
2)"””” ভালবাসার আতপ "”””
মন খারাপের ঠিকানায়
ঘর বেঁধেই আমার সুখ,
আকাশ জুড়ে রৌদ্রভুখ
মেঘের আনাগোনা।
আজ হৃদয় আমার ময়ুরের মত
বিভঙ্গে নারাজ।
পীড়িত দেহটাকে নিয়ে
স্থবির আমি পথ পরিক্রমায়।
তবুও ভালবাসার আতপ
পাব বলে যেতে চাই প্রণয় নগরে।
হাটতে চাই চাই হাজার বছরের
ম্যারাথন শুধু ভালবাসার তরে।
ঘর বেঁধেই আমার সুখ,
আকাশ জুড়ে রৌদ্রভুখ
মেঘের আনাগোনা।
আজ হৃদয় আমার ময়ুরের মত
বিভঙ্গে নারাজ।
পীড়িত দেহটাকে নিয়ে
স্থবির আমি পথ পরিক্রমায়।
তবুও ভালবাসার আতপ
পাব বলে যেতে চাই প্রণয় নগরে।
হাটতে চাই চাই হাজার বছরের
ম্যারাথন শুধু ভালবাসার তরে।
3)”””” দানা মাঝি “””””
বধ্যভূমিতে আমরা সবাই ভীত ছাগশিশু,
কারওবা চোখে মুখে কসাইএর লোলুপ হাসি।
বর্ণান্ধ এই চোখে সবই তো সাদা-কালো;
শুধু ক্ষুধার যন্ত্রনা ভুলি রক্তের লোহিত রঙে।
প্রতি মুহুর্তে বিক্রী হয়ে যায় ভালবাসা
অর্থের বিনিময়ে, অন্ধকারের গলি থেকে রাজপথে।
তবুও বুকে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছি,
প্রানহীন এই কংক্রিটের জঙ্গলে বা বনস্পতিহীন গ্রামে।
তবে ভালবাসাহীন এই মৃত্যুর উপত্যাকায়
মেকী মুখোসের আড়ালে
আর কতদিন, আর কতকাল ?
দেখতে হবে তোমাদের অভিনয়?
ঠিক তখনই মনে পড়ে দানা মাঝি তোমার কথা;
তুমি, তোমার মেনকার দেহ কাঁধে নিয়ে
পাড়ি দিলে এক ভালবাসার দেশের উদ্দেশ্যে।
না, কাউকে কোপানলে ভস্মীভুত করতে নয়,
এক’শ কোটি মানুষের বিবেককে তুমিই
প্রথম অভয় দিলে। বোঝালে ভালবাসা অমর।
জানিয়ে দিলে ভালবাসার মৃত্যু নেই।
কারওবা চোখে মুখে কসাইএর লোলুপ হাসি।
বর্ণান্ধ এই চোখে সবই তো সাদা-কালো;
শুধু ক্ষুধার যন্ত্রনা ভুলি রক্তের লোহিত রঙে।
প্রতি মুহুর্তে বিক্রী হয়ে যায় ভালবাসা
অর্থের বিনিময়ে, অন্ধকারের গলি থেকে রাজপথে।
তবুও বুকে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছি,
প্রানহীন এই কংক্রিটের জঙ্গলে বা বনস্পতিহীন গ্রামে।
তবে ভালবাসাহীন এই মৃত্যুর উপত্যাকায়
মেকী মুখোসের আড়ালে
আর কতদিন, আর কতকাল ?
দেখতে হবে তোমাদের অভিনয়?
ঠিক তখনই মনে পড়ে দানা মাঝি তোমার কথা;
তুমি, তোমার মেনকার দেহ কাঁধে নিয়ে
পাড়ি দিলে এক ভালবাসার দেশের উদ্দেশ্যে।
না, কাউকে কোপানলে ভস্মীভুত করতে নয়,
এক’শ কোটি মানুষের বিবেককে তুমিই
প্রথম অভয় দিলে। বোঝালে ভালবাসা অমর।
জানিয়ে দিলে ভালবাসার মৃত্যু নেই।
4)"""" পঞ্চ ইন্দ্রিয় """"
যখনই অন্তরে বাসনা হয়,
দুচোখ ভরে তোমার রূপসুধা পান করি
তখনই আমি অন্ধ হয়ে যাই।
তোমার কিন্নরী কন্ঠ
শুনতে চাইলেই,
কেমন যেন আমি বধির হয়ে যাই!
যখনই মনে করি তোমার শরীরের
সুবাসে আমোদিত হ'ব,
আমার সকল ঘ্রাণশক্তি লোপ পেয়ে যায়।
তোমার জিহ্বাতে কেন যে পাই না
সেই চুম্বনের স্বাদ !.........
শরীরেও জাগে না শিহরণ।
তোমার প্রতি অঙ্গ পরশেও
ত্বকে মোর জাগে না শিহরণ !
খেলে না বিদ্যুৎ কোষ থেকে কোষান্তরে।
তবু যে কেন হাজার বছর ধরে,
লালন করে গেছি তোমাকে,
আমারই মনের মনিকোঠায় ???
দুচোখ ভরে তোমার রূপসুধা পান করি
তখনই আমি অন্ধ হয়ে যাই।
তোমার কিন্নরী কন্ঠ
শুনতে চাইলেই,
কেমন যেন আমি বধির হয়ে যাই!
যখনই মনে করি তোমার শরীরের
সুবাসে আমোদিত হ'ব,
আমার সকল ঘ্রাণশক্তি লোপ পেয়ে যায়।
তোমার জিহ্বাতে কেন যে পাই না
সেই চুম্বনের স্বাদ !.........
শরীরেও জাগে না শিহরণ।
তোমার প্রতি অঙ্গ পরশেও
ত্বকে মোর জাগে না শিহরণ !
খেলে না বিদ্যুৎ কোষ থেকে কোষান্তরে।
তবু যে কেন হাজার বছর ধরে,
লালন করে গেছি তোমাকে,
আমারই মনের মনিকোঠায় ???
5)"""" অপেক্ষা """"
আমার জন্ম পর্যন্তও বাবা করেনি অপেক্ষা,
কি এমন তাড়া ছিল তার?
নিজের সন্তানকে একবারের তরে না দেখে,
যে কিনা চলে যায় এই দুনিয়া ছেড়ে;
আমার জন্মের আট মাস আগেই?
সেই অভিমান আজও আমাকে কুরে কুরে খায়।
তবে আমার মাও আর বেশীদিন করেনি অপেক্ষা,
গাঁয়ের লোকেদের 'কুলকলঙ্কিনী' অপবাদ নিয়ে
চলে গেল সে ট্রেনের তলায় কেমন নিশ্চিন্তে;
যে ট্রেনের ঘড়ি আধ ঘন্টা লেট থাকাই স্বাভাবিক
সে কেন সেদিন দশটা মিনিট করেনি অপেক্ষা?
সেই অভিমান আজও আমাকে কুরে কুরে খায়।
কুমারী মায়ের 'বেজন্মা সন্তান'
যার কুঁড়িতেই বিনষ্ট হওয়ার কথা ছিল,
হাজারও ঝড়-ঝাপটায়,সে আজ যৌবনে উপনীত ।
গ্রাম ছেড়ে চলেছি শহরের পথে জীবিকার সন্ধানে,
গাঁয়ে সেদিন কেউ করেনি অপেক্ষা আমাকে জানাতে বিদায়;
শুধু একজন-শুধু একজন, মাতৃহীনা কিশোরী করেছিল অপেক্ষা।
সঞ্চালী বলেছিল, আমাকে ছাড়া সে বাঁচবে না,
আমি বলেছিলাম, অপেক্ষা করো চাকরিটা হোক পাকা।
পাকা চাকরির খবর নিয়ে গাঁয়ে ফিরে চোখ পড়ল তার রঙ্গীন সিঁথিতে;
হাসি মুখে বললে, বাবা অপেক্ষা করল না।
আমি বললাম, বাবাকে তো বলিনি অপেক্ষা করতে!......,
সেই অভিমান আজও আমাকে কুরে কুরে খায়।
শহরের রাজপথে এক ব্যর্থ যুবক
পিতৃহীন, মাতৃহীন, পুত্র-কন্যা-কলত্রহীন এবং প্রেমহীন,
একইসাথে আজ সে শোকহীন, দুঃখহীন
যার জন্য কোনদিন কেউ করেনি অপেক্ষা
সে নিজেই আজ এক নিরন্তর মিলনের অপেক্ষায়
সে মিলন কি সত্যিই শ্যামও সমান?
চালহীন চুলোহীন সমাজ পরিত্যক্ত এক যুবক,
আজ 'বডি' হয়ে পরে আছে কলকাতার রাজপথে।
নাকে কাপড় দিয়ে চলে যায় একে একে, কেউ করেনি অপেক্ষা!
মর্গ থেকে শ্মশানে সই-সাবুদ করে হাত বদল হয় 'বডি'র।
'বডি'র লাইনে চার নম্বর...। ডোমরাজকে শুধায় সবাই--
কতক্ষন লাগবে 'বডিটা' পুড়তে? আবারও এক ঘন্টার অপেক্ষা ??
কি এমন তাড়া ছিল তার?
নিজের সন্তানকে একবারের তরে না দেখে,
যে কিনা চলে যায় এই দুনিয়া ছেড়ে;
আমার জন্মের আট মাস আগেই?
সেই অভিমান আজও আমাকে কুরে কুরে খায়।
তবে আমার মাও আর বেশীদিন করেনি অপেক্ষা,
গাঁয়ের লোকেদের 'কুলকলঙ্কিনী' অপবাদ নিয়ে
চলে গেল সে ট্রেনের তলায় কেমন নিশ্চিন্তে;
যে ট্রেনের ঘড়ি আধ ঘন্টা লেট থাকাই স্বাভাবিক
সে কেন সেদিন দশটা মিনিট করেনি অপেক্ষা?
সেই অভিমান আজও আমাকে কুরে কুরে খায়।
কুমারী মায়ের 'বেজন্মা সন্তান'
যার কুঁড়িতেই বিনষ্ট হওয়ার কথা ছিল,
হাজারও ঝড়-ঝাপটায়,সে আজ যৌবনে উপনীত ।
গ্রাম ছেড়ে চলেছি শহরের পথে জীবিকার সন্ধানে,
গাঁয়ে সেদিন কেউ করেনি অপেক্ষা আমাকে জানাতে বিদায়;
শুধু একজন-শুধু একজন, মাতৃহীনা কিশোরী করেছিল অপেক্ষা।
সঞ্চালী বলেছিল, আমাকে ছাড়া সে বাঁচবে না,
আমি বলেছিলাম, অপেক্ষা করো চাকরিটা হোক পাকা।
পাকা চাকরির খবর নিয়ে গাঁয়ে ফিরে চোখ পড়ল তার রঙ্গীন সিঁথিতে;
হাসি মুখে বললে, বাবা অপেক্ষা করল না।
আমি বললাম, বাবাকে তো বলিনি অপেক্ষা করতে!......,
সেই অভিমান আজও আমাকে কুরে কুরে খায়।
শহরের রাজপথে এক ব্যর্থ যুবক
পিতৃহীন, মাতৃহীন, পুত্র-কন্যা-কলত্রহীন এবং প্রেমহীন,
একইসাথে আজ সে শোকহীন, দুঃখহীন
যার জন্য কোনদিন কেউ করেনি অপেক্ষা
সে নিজেই আজ এক নিরন্তর মিলনের অপেক্ষায়
সে মিলন কি সত্যিই শ্যামও সমান?
চালহীন চুলোহীন সমাজ পরিত্যক্ত এক যুবক,
আজ 'বডি' হয়ে পরে আছে কলকাতার রাজপথে।
নাকে কাপড় দিয়ে চলে যায় একে একে, কেউ করেনি অপেক্ষা!
মর্গ থেকে শ্মশানে সই-সাবুদ করে হাত বদল হয় 'বডি'র।
'বডি'র লাইনে চার নম্বর...। ডোমরাজকে শুধায় সবাই--
কতক্ষন লাগবে 'বডিটা' পুড়তে? আবারও এক ঘন্টার অপেক্ষা ??
6)""" আমার ঠিকানা """
আজও খুজে চলি 'আমার নিজের বাড়িটা'...;
চারিদিকে এতো বাড়ি' এত ঘর, নতুন কিম্বা পুরানো...।
টালির কিম্বা দালান, একতলা, থেকে চারতলা...।
কোথাও পাই না খুজে আমার নিজের ঠিকানা...।
ছোট্টবেলায় অজয়ের ধারে কাশবনের মাঝে...
ছিল ছোট্ট একটা সুন্দর বাড়ি আমার...... থুড়ি, আমার বাবার,
ছুটির দিনে বাবা আর আমি আকাশ পানে দুহাত তুলে গাইতাম,
"বাড়ি আমার ভাঙ্গন ধরে অজয় নদের বাঁকে......।"
একদিন মায়ের সঙ্গে গেলাম তার 'বাপের বাড়ি'।
মামারা করলে অনেক খাতির, পুকুরের মাছ, গাছের আম আরও কত কি?
দাদু-দিদা বললে, - আর কটা দিন থেকে যা।
মা বললে,- 'শশুর বাড়ি' ছেড়ে কতদিন আর 'বাপের বাড়িতে' থাকব বলো?
তারপর এক শুভদিনে আমার-ও হ'ল বিয়ে;
হাজারও দুঃখের মধ্যে সেদিন হয়েছিলাম খুশি এটা ভেবে......
বাকী জীবনটা কলকাতায় হবে 'আমার নিজের বাড়ি'।
যে কলকাতাকে এতদিন শুধু দেখেছি স্বপনে।
এক ছুটির দিনে আমার শিশুর মত সরল স্বামীকে বললাম,
চল এবার পুজোয় যাই আমার 'বাপের বাড়ি'........
অজয়ের ধারে দাঁড়িয়ে দুজনে আকাশ পানে দুহাত তুলে গাইব
"বাড়ি আমার ভাঙ্গন ধরা অজয় নদের বাঁকে...।"
উচ্ছ্বাসে আমাদের গলায় ছিল না বাঁধন......।
পাশের ঘর থেকে শশুরমশাই তদোধিক চিৎকার করে উঠলেন,
বললেন, এটা 'আমার বাড়ি' .........
এ বাড়িতে এ কেমন বেলেল্লাপনা বাড়ির বৌ-এর ?
শশুর-শাসুড়ি-স্বামী সবাই নিয়েছেন একে একে বিদায়......
একমাত্র সন্তান থাকে বিদেশে।
একা নিঃস্ব বৃদ্ধা পাহারা দিয়ে চলেছি আমা্র ইটের পাঁজরকে.....।
এত দিনে পেয়েছি যে 'আমার নিজের বাড়ি'।
হটাৎ ছেলে এল বিদেশ থেকে, বললে-
এত বড় বাড়িটায় তুমি থাকো একা, তাই বড় দুশ্চিন্তা!
ভাবছি 'আমার বাড়িটা' দেব বিকিয়ে, তোমার জন্য কিনবো একটি ছোট্ট ফ্লাট।
আমি বলি-- "সেটাই ভাল......, কোথায় করতে হবে সই বলো ?"
ছেলে ফিরে যায় নিজের সংসারে বিদেশে...।
আমি শুধু নিরুদ্দেশে ঘুরে ফিরি 'আমার বাড়ি'র আশে,
উপেন পেয়েছে "বিশ্ব নিখিল" তারই দুবিঘার তরে,
আমি কি পাবোনা "ঠিকানা একটি" আমার নিজের করে ?
চারিদিকে এতো বাড়ি' এত ঘর, নতুন কিম্বা পুরানো...।
টালির কিম্বা দালান, একতলা, থেকে চারতলা...।
কোথাও পাই না খুজে আমার নিজের ঠিকানা...।
ছোট্টবেলায় অজয়ের ধারে কাশবনের মাঝে...
ছিল ছোট্ট একটা সুন্দর বাড়ি আমার...... থুড়ি, আমার বাবার,
ছুটির দিনে বাবা আর আমি আকাশ পানে দুহাত তুলে গাইতাম,
"বাড়ি আমার ভাঙ্গন ধরে অজয় নদের বাঁকে......।"
একদিন মায়ের সঙ্গে গেলাম তার 'বাপের বাড়ি'।
মামারা করলে অনেক খাতির, পুকুরের মাছ, গাছের আম আরও কত কি?
দাদু-দিদা বললে, - আর কটা দিন থেকে যা।
মা বললে,- 'শশুর বাড়ি' ছেড়ে কতদিন আর 'বাপের বাড়িতে' থাকব বলো?
তারপর এক শুভদিনে আমার-ও হ'ল বিয়ে;
হাজারও দুঃখের মধ্যে সেদিন হয়েছিলাম খুশি এটা ভেবে......
বাকী জীবনটা কলকাতায় হবে 'আমার নিজের বাড়ি'।
যে কলকাতাকে এতদিন শুধু দেখেছি স্বপনে।
এক ছুটির দিনে আমার শিশুর মত সরল স্বামীকে বললাম,
চল এবার পুজোয় যাই আমার 'বাপের বাড়ি'........
অজয়ের ধারে দাঁড়িয়ে দুজনে আকাশ পানে দুহাত তুলে গাইব
"বাড়ি আমার ভাঙ্গন ধরা অজয় নদের বাঁকে...।"
উচ্ছ্বাসে আমাদের গলায় ছিল না বাঁধন......।
পাশের ঘর থেকে শশুরমশাই তদোধিক চিৎকার করে উঠলেন,
বললেন, এটা 'আমার বাড়ি' .........
এ বাড়িতে এ কেমন বেলেল্লাপনা বাড়ির বৌ-এর ?
শশুর-শাসুড়ি-স্বামী সবাই নিয়েছেন একে একে বিদায়......
একমাত্র সন্তান থাকে বিদেশে।
একা নিঃস্ব বৃদ্ধা পাহারা দিয়ে চলেছি আমা্র ইটের পাঁজরকে.....।
এত দিনে পেয়েছি যে 'আমার নিজের বাড়ি'।
হটাৎ ছেলে এল বিদেশ থেকে, বললে-
এত বড় বাড়িটায় তুমি থাকো একা, তাই বড় দুশ্চিন্তা!
ভাবছি 'আমার বাড়িটা' দেব বিকিয়ে, তোমার জন্য কিনবো একটি ছোট্ট ফ্লাট।
আমি বলি-- "সেটাই ভাল......, কোথায় করতে হবে সই বলো ?"
ছেলে ফিরে যায় নিজের সংসারে বিদেশে...।
আমি শুধু নিরুদ্দেশে ঘুরে ফিরি 'আমার বাড়ি'র আশে,
উপেন পেয়েছে "বিশ্ব নিখিল" তারই দুবিঘার তরে,
আমি কি পাবোনা "ঠিকানা একটি" আমার নিজের করে ?
7)"""" বিবাহ বার্ষিকী """"
পিয়াজ দিয়ে পান্তা খেয়ে,
বেরিয়ে পরি লা'টি নিয়ে।
কোষ্টা ভর্তি লা'এ চরে,
বাঁশের গাদায় দখিন দাঁড়ে।
গাঙ্গের খোলে অনেক জল....,
মরদ বলে, ঐ জলকে চল।
মরদ যায় আমায় নিয়ে,
খুনসুটির সেই গানটি গেয়ে।
জালটি টানে শক্ত চোয়াল,
লাফিয়ে ওঠে একটি বোয়াল।
ফেরার সময়ে ভাটার পানে,
মরদ আমায় গুন-টি টানে।
হালটি আমি কষেই ধরি,
তার কান্ড দেখে হেসেই মরি।
দিনটি মোদের বড়ই জবর,
বিয়ের হ'ল তিনটি বছর।
আমি রানী সে মোর রাজা,
আজকে খাবো বোয়াল ভাজা,
কেমনে তে ভাজবো মীন,
রসুই আমার তৈল হীন।
তপ্ত ভাতের সুবাস ভরা
সঙ্গে বাড়তি বোয়াল পোড়া।
এক পাতেতে ভাতটি খেয়ে,
আঁধার করে পড়ি শুয়ে।
মরদের বুকে রেখে মাথা,
ফুরিয়ে গেল আমার কথা।
বেরিয়ে পরি লা'টি নিয়ে।
কোষ্টা ভর্তি লা'এ চরে,
বাঁশের গাদায় দখিন দাঁড়ে।
গাঙ্গের খোলে অনেক জল....,
মরদ বলে, ঐ জলকে চল।
মরদ যায় আমায় নিয়ে,
খুনসুটির সেই গানটি গেয়ে।
জালটি টানে শক্ত চোয়াল,
লাফিয়ে ওঠে একটি বোয়াল।
ফেরার সময়ে ভাটার পানে,
মরদ আমায় গুন-টি টানে।
হালটি আমি কষেই ধরি,
তার কান্ড দেখে হেসেই মরি।
দিনটি মোদের বড়ই জবর,
বিয়ের হ'ল তিনটি বছর।
আমি রানী সে মোর রাজা,
আজকে খাবো বোয়াল ভাজা,
কেমনে তে ভাজবো মীন,
রসুই আমার তৈল হীন।
তপ্ত ভাতের সুবাস ভরা
সঙ্গে বাড়তি বোয়াল পোড়া।
এক পাতেতে ভাতটি খেয়ে,
আঁধার করে পড়ি শুয়ে।
মরদের বুকে রেখে মাথা,
ফুরিয়ে গেল আমার কথা।
8)"""" ফটাস জল """
কেষ্টচন্দপুরে অন্ধমুনির মেলায়
কলার কাঁদির কি বাহার?
নিঃস্ব পিকলুর ইচ্ছে ছিল,
নিজের পয়সায় একটা কলা কিনে খাবে; মাত্র দু পয়সা দামে;
আর ঝন্টুকেও একটা খাওয়াবে।
ঝন্টু পিকলুকে একটা বড় সাদা বাতাসা কিনে খাইয়েছে।
মেলায় আর একটা জিনিস পিকলুকে খুব টানে......,
দশ পয়সার ফটাস-জল। কোনদিন সে খায়নি।
বোতল-টা খোলার সময়ে কেমন যেন ফটাস করে শব্দ হয়;
তারপর সাদা ফেনায় বোতলের মুখ ছাপিয়ে যায়।
লোকে খেয়ে ঢেকুর তোলে।
একদিন নিজের পয়সায় ওই ফটাস শব্দ শুনতে চায় সে।
বড়দের মত ঢেকুর তুলতে চায় সেও,
একদিন বাবা নিশ্চই দশ পয়সা দেবে।
সেদিন ও ফটাস জল খেয়ে ঢেকুর তুলবে।
সেদিন মেলায় বনানীর সাথে দেখা।
বনানীকে ওর বেশ ভালো লাগে।
মেলায় বনানীর দেয়া এক আনার লেবুঞ্চুসটার
কি দারুন স্বাদ!!
আর আট আনা দিয়ে একটা রবি ঠাকুরের ছবিও কিনল বনানী।
বল্লে ওর ঘরের দেয়ালে রাখবে সাজিয়ে।
পিকলুর তো নিজের কোন ঘরই নেই,
তা হোক, সেও একটা রবি ঠাকুরের ছবি কিনবে,
আর দেয়ালে রেখে দুহাত জোড় করে বলবে.........,
"অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে।
নির্মল করো উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে।
জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।......"
ঠিক তখনই আর...। ঠিক তখনই
পিকলু দেখতে পেলে ওর বাবাকে,
আবদার করে,... বাবার কাছে সামান্য একটা টাকার...।
নিষ্ঠুর বাবা উত্তর দিলেন এক দুরন্ত চপেটিকায়।
ওর চোখে সেদিন ছিল না কোনো অশ্রু
শুধু মনে হল আঘাতের শব্দটা ঠিক যেন ফটাস জলের মত।
কলার কাঁদির কি বাহার?
নিঃস্ব পিকলুর ইচ্ছে ছিল,
নিজের পয়সায় একটা কলা কিনে খাবে; মাত্র দু পয়সা দামে;
আর ঝন্টুকেও একটা খাওয়াবে।
ঝন্টু পিকলুকে একটা বড় সাদা বাতাসা কিনে খাইয়েছে।
মেলায় আর একটা জিনিস পিকলুকে খুব টানে......,
দশ পয়সার ফটাস-জল। কোনদিন সে খায়নি।
বোতল-টা খোলার সময়ে কেমন যেন ফটাস করে শব্দ হয়;
তারপর সাদা ফেনায় বোতলের মুখ ছাপিয়ে যায়।
লোকে খেয়ে ঢেকুর তোলে।
একদিন নিজের পয়সায় ওই ফটাস শব্দ শুনতে চায় সে।
বড়দের মত ঢেকুর তুলতে চায় সেও,
একদিন বাবা নিশ্চই দশ পয়সা দেবে।
সেদিন ও ফটাস জল খেয়ে ঢেকুর তুলবে।
সেদিন মেলায় বনানীর সাথে দেখা।
বনানীকে ওর বেশ ভালো লাগে।
মেলায় বনানীর দেয়া এক আনার লেবুঞ্চুসটার
কি দারুন স্বাদ!!
আর আট আনা দিয়ে একটা রবি ঠাকুরের ছবিও কিনল বনানী।
বল্লে ওর ঘরের দেয়ালে রাখবে সাজিয়ে।
পিকলুর তো নিজের কোন ঘরই নেই,
তা হোক, সেও একটা রবি ঠাকুরের ছবি কিনবে,
আর দেয়ালে রেখে দুহাত জোড় করে বলবে.........,
"অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে।
নির্মল করো উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে।
জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।......"
ঠিক তখনই আর...। ঠিক তখনই
পিকলু দেখতে পেলে ওর বাবাকে,
আবদার করে,... বাবার কাছে সামান্য একটা টাকার...।
নিষ্ঠুর বাবা উত্তর দিলেন এক দুরন্ত চপেটিকায়।
ওর চোখে সেদিন ছিল না কোনো অশ্রু
শুধু মনে হল আঘাতের শব্দটা ঠিক যেন ফটাস জলের মত।
9)""" পলাশ বনে আমি একা """
মাদলের ঝংকারে, মহুয়ার নেশায়,
খোয়াইয়ের পলাশ বনে, তখন একলা আমি।
পলাশের রঙে রাতুল আকাশ, মাতাল বাতাস,
অলক্ত রঞ্জিত চরণে, তুমি এসেছিলে নীরবে।
শাল পলাশের বনে, যৌবনের তাড়নায়,
দৃষ্টিহীন আমি তখন, তোমায় পাইনি দেখিতে।
খোয়াইয়ের পলাশ বনে, তখন একলা আমি।
পলাশের রঙে রাতুল আকাশ, মাতাল বাতাস,
অলক্ত রঞ্জিত চরণে, তুমি এসেছিলে নীরবে।
শাল পলাশের বনে, যৌবনের তাড়নায়,
দৃষ্টিহীন আমি তখন, তোমায় পাইনি দেখিতে।
10)"""" ODD MAN OUT """"
মাঝে মাঝে মন খারাপের ঠিকানায়,
ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে।
গোধুলি গগনে ঘন মেঘ,
বৃষ্টিহীন আবছা আলোয় ধুসর গাছ,
নিভৃর্তি পরিশ্রমে ক্লান্ত পথিক দিগভ্রান্ত।
অবসন্ন বিহঙ্গকুল মেঘকজ্জলে বিলীন;
রাঙ্গামাটির কঙ্কর বিস্তৃত পথে
স্বজন হারা নিরুদ্দিষ্ট আমি একা।
ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে।
গোধুলি গগনে ঘন মেঘ,
বৃষ্টিহীন আবছা আলোয় ধুসর গাছ,
নিভৃর্তি পরিশ্রমে ক্লান্ত পথিক দিগভ্রান্ত।
অবসন্ন বিহঙ্গকুল মেঘকজ্জলে বিলীন;
রাঙ্গামাটির কঙ্কর বিস্তৃত পথে
স্বজন হারা নিরুদ্দিষ্ট আমি একা।
11)"""" মাধুকর """"
শ্রাবন্তিপুরের হাটে দেখা হয়েছিল তোমার সাথে
বাউলের দলে মাধুকর হয়ে গেয়েছিলে একলা চলার গান।
তখনও চিনিনি তোমায়। আমি তখন নেশাগ্রস্থ,
উচ্চাশার সোপানে চড়ার নেশায়
এক বিদেশিনীর ঘেরাটোপে।
আমার চোখে রঙ্গীন স্বপ্নের ঘোর
দেয়নি, তোমাকে এক পলক দেখারও সময়।
রাত্রিভর অবুঝ বালকের ন্যায় রচেছি কত রঙ্গীন ফানুস!
বুঝিনি সময় হয়েছে বিষ্ফোরণের সে স্বপ্নের।
তাই আজ রক্তাক্ত শরীরে এসেছি তোমার দ্বারে,
জানিনা সে মোর কোন অধিকার !
তুমি তো এখনও আছো, হয়ে সেই মাধুকর ?
বাউলের দলে মাধুকর হয়ে গেয়েছিলে একলা চলার গান।
তখনও চিনিনি তোমায়। আমি তখন নেশাগ্রস্থ,
উচ্চাশার সোপানে চড়ার নেশায়
এক বিদেশিনীর ঘেরাটোপে।
আমার চোখে রঙ্গীন স্বপ্নের ঘোর
দেয়নি, তোমাকে এক পলক দেখারও সময়।
রাত্রিভর অবুঝ বালকের ন্যায় রচেছি কত রঙ্গীন ফানুস!
বুঝিনি সময় হয়েছে বিষ্ফোরণের সে স্বপ্নের।
তাই আজ রক্তাক্ত শরীরে এসেছি তোমার দ্বারে,
জানিনা সে মোর কোন অধিকার !
তুমি তো এখনও আছো, হয়ে সেই মাধুকর ?
12)"""" বনপলাশীর কলমিলতা """"
কেমন আছিস, বনপলাশীর কলমিলতা ?
কতদিন তোর সঙ্গে, হয়নি কোনো কথা।
এখনো কি ভয় দেখাস, ভুত-পেত্নী সেজে !
মগডালেতে উঠে পরিস, ডাসা পেয়ারার খোজে?
কাঠ বেড়ালী পুষিশ নাকি, খাচার ভিতর ধরে !
ঘুরে বেড়াস যেখানেতে, পেরজাপতি ওড়ে?
কাচ পোকাটা ঘষে ঘষে, কপালে টিপখানি,
খোপায় গুজে বকের পালক, আজও সাজিস রানী?
পাকা কুল পাড়তে গিয়ে, দেখিস নাকি উঠে
বুলবুলিতে ডিম পেড়েছে, গন্ডা খানেক মোটে ?
ডুব সাতারে পার হয়ে যাস, এপার থেকে ওপার
মিনিট দশেক ডুবে থাকা, তেমনটা নয় ব্যাপার।
দত্ত বাড়ির লালির পিছু, ছুটিস নাকি আজও ?
সবাই বলে ডানপিটে-টার নেই কি কোনো কাজও
মানতি পিসি চেচিয়ে বলেন -- " ও ডানপিটে মেয়ে...
ঘরে তোকে নেবে না কেউ গলায় মালা দিয়ে...।"
তার পরেতে হয়নি দেখা, দশক তিনেক ধরে
তবু তোর নামটি সদা্ মনের মাঝে ঘোরে।
হটাৎ সেদিন ফেস বুকেতে, চমকে উঠি দেখে
কলমিতা সেন থাকেন, কানাডার কুইবেকে।
স্বামী সেথায় ব্যস্ত ভীষন, অধ্যাপনা নিয়ে,
বঙ্গ সমাজ ধন্য সেথা, তোকে মাথায় পেয়ে।
তোর কথা গাঁয়ের যেমন, সবার পড়ে মনে
বনপলাশী তোকে কি আর, তেমন তোকে টানে ?
কতদিন তোর সঙ্গে, হয়নি কোনো কথা।
এখনো কি ভয় দেখাস, ভুত-পেত্নী সেজে !
মগডালেতে উঠে পরিস, ডাসা পেয়ারার খোজে?
কাঠ বেড়ালী পুষিশ নাকি, খাচার ভিতর ধরে !
ঘুরে বেড়াস যেখানেতে, পেরজাপতি ওড়ে?
কাচ পোকাটা ঘষে ঘষে, কপালে টিপখানি,
খোপায় গুজে বকের পালক, আজও সাজিস রানী?
পাকা কুল পাড়তে গিয়ে, দেখিস নাকি উঠে
বুলবুলিতে ডিম পেড়েছে, গন্ডা খানেক মোটে ?
ডুব সাতারে পার হয়ে যাস, এপার থেকে ওপার
মিনিট দশেক ডুবে থাকা, তেমনটা নয় ব্যাপার।
দত্ত বাড়ির লালির পিছু, ছুটিস নাকি আজও ?
সবাই বলে ডানপিটে-টার নেই কি কোনো কাজও
মানতি পিসি চেচিয়ে বলেন -- " ও ডানপিটে মেয়ে...
ঘরে তোকে নেবে না কেউ গলায় মালা দিয়ে...।"
তার পরেতে হয়নি দেখা, দশক তিনেক ধরে
তবু তোর নামটি সদা্ মনের মাঝে ঘোরে।
হটাৎ সেদিন ফেস বুকেতে, চমকে উঠি দেখে
কলমিতা সেন থাকেন, কানাডার কুইবেকে।
স্বামী সেথায় ব্যস্ত ভীষন, অধ্যাপনা নিয়ে,
বঙ্গ সমাজ ধন্য সেথা, তোকে মাথায় পেয়ে।
তোর কথা গাঁয়ের যেমন, সবার পড়ে মনে
বনপলাশী তোকে কি আর, তেমন তোকে টানে ?
13)"""""" বৃত্তের বাইরে """"""
একদিন সে চলে যাবে
বুক ভরা অভিমান নিয়ে বৃত্তের বাইরে,
অনেক খুজেও সেদিন পাবে না তারে।
বুক ভরা অভিমান তবু মুখে স্মিত হাসি
দুঃখের সাগরে কতদিন সে রবে সুচিস্মিত?
তার তুলিকা গেছে ভোতা হয়ে। রঙ হয়েছে বাসি।
কেমনে এঁকে যাবে যাবে নয়নে......
তোমাদের পছন্দের রেখা দিনের পর দিন ?
বলি-প্রদত্ত ছাগ শিশুর ন্যায় সে ভীত সন্ত্রস্ত,
চকিতে কম্পিত......... চকিতে ত্রস্ত।
থাক না অনুভুতি প্রবন মনটা আজ প্রদীপের আড়ালে !
বাইরের হর্ষেই পড়ুক যত আলো।
তার হৃদয়ের খবর থাকুক না আঁধারে
ভাবুক না সবাই তাকে কষ্ট বিলাশী ?
গোপনেই থাকুক তার সঞ্ছিত কষ্ট যত।
তোমাদের উপহাসের সহচরী হয়ে
একদিন সে তো চলেই যাবে বৃত্তের বাইরে !
বুক ভরা অভিমান নিয়ে বৃত্তের বাইরে,
অনেক খুজেও সেদিন পাবে না তারে।
বুক ভরা অভিমান তবু মুখে স্মিত হাসি
দুঃখের সাগরে কতদিন সে রবে সুচিস্মিত?
তার তুলিকা গেছে ভোতা হয়ে। রঙ হয়েছে বাসি।
কেমনে এঁকে যাবে যাবে নয়নে......
তোমাদের পছন্দের রেখা দিনের পর দিন ?
বলি-প্রদত্ত ছাগ শিশুর ন্যায় সে ভীত সন্ত্রস্ত,
চকিতে কম্পিত......... চকিতে ত্রস্ত।
থাক না অনুভুতি প্রবন মনটা আজ প্রদীপের আড়ালে !
বাইরের হর্ষেই পড়ুক যত আলো।
তার হৃদয়ের খবর থাকুক না আঁধারে
ভাবুক না সবাই তাকে কষ্ট বিলাশী ?
গোপনেই থাকুক তার সঞ্ছিত কষ্ট যত।
তোমাদের উপহাসের সহচরী হয়ে
একদিন সে তো চলেই যাবে বৃত্তের বাইরে !
14)"""" দুরত্ব """"
চলে যেতে চাই অনেক দূর......
জীবনের অসংখ্য জলছবির মনতাজ হয়ে... আরো অনেক দূরে।
চাইনা আমি জীবন্মৃত হয়ে থাকতে তোমার গৃহে,
তোমার ছলনার মিথ্যা অনুগ্রহে।
তোমার অনুরাগহীন উদর সর্বস্ব স্থূল শরীর,
হোকনা আমার স্মৃতির অতীত!
জেগে থাক আমার মনের আঙ্গীনায়,
শুধুই তোমার নিষ্ঠুর ক্লীব মন।
তোমার মুখোশ পরা মুখের আমি অননুরক্ত।
তবুও জানি আমি, যতই হই না কেন অন্ধ,
প্রলয় তাতেও হবে না কোনদিন বন্ধ।
মরুভুমির তপ্ত বালুকণায় লুকিয়ে মুখ
আজীবন খুজে বেড়াই এ কোন মরুদ্যান ?
পাথেয়হীন পথিক হয়ে আজি,
এ কোন পদাতিক আমি!
খুজে বেড়াই আঁধারের রাস্তা ?
কন্টকাকীর্ন পদযুগল আজ আমার চলৎশক্তিহীন;
কবিতাহীন মন আজ আমার দ্বার-রুদ্ধ।
জীবনের অসংখ্য জলছবির মনতাজ হয়ে... আরো অনেক দূরে।
চাইনা আমি জীবন্মৃত হয়ে থাকতে তোমার গৃহে,
তোমার ছলনার মিথ্যা অনুগ্রহে।
তোমার অনুরাগহীন উদর সর্বস্ব স্থূল শরীর,
হোকনা আমার স্মৃতির অতীত!
জেগে থাক আমার মনের আঙ্গীনায়,
শুধুই তোমার নিষ্ঠুর ক্লীব মন।
তোমার মুখোশ পরা মুখের আমি অননুরক্ত।
তবুও জানি আমি, যতই হই না কেন অন্ধ,
প্রলয় তাতেও হবে না কোনদিন বন্ধ।
মরুভুমির তপ্ত বালুকণায় লুকিয়ে মুখ
আজীবন খুজে বেড়াই এ কোন মরুদ্যান ?
পাথেয়হীন পথিক হয়ে আজি,
এ কোন পদাতিক আমি!
খুজে বেড়াই আঁধারের রাস্তা ?
কন্টকাকীর্ন পদযুগল আজ আমার চলৎশক্তিহীন;
কবিতাহীন মন আজ আমার দ্বার-রুদ্ধ।
15)""""""""রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।""""""""
সাত ফুট বাই আটফুট ঘর আমার
রেল লাইনের পাশে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বাদল দিনে নৌক চলে ......,
শীতের দিনে কাঁপন তোলে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ আমার ব্যস্ত থাকে নানান কাজে,
এক বাড়িতে ঘর মোছে, আর এক খানে বাসন মাজে;
মাঝে মধ্যে পর্টির কাজে সন্ধ্যাবেলায় ভীষন সাজে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
ছেলে আমার লায়েক বড়, পাড়ার দাদার প্রিয়তম
বোমা পিস্তল মেশিন বলো অনেকটা তার খেলনা সম।
সম বচ্ছর ছটি মাসে,
বাঁধাই আছে কারাবাসে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
মেয়ে আমার ষোলোয় প'ল।
তিনটিবার পোয়াতি হ'ল
শেষের সেবার সেই 'দাদা' এসে
হাসপাতালে নিয়ে শেষে;
সাদা কাপড়ে ঢাকা দিয়ে, কাঁচ গাড়ীতে ফিরে আসে।
কেঁদে কেটে দাদা বলে,
যে গেছে সে গেছে চলে।
দশ হাজারে রফা হল অবশেষে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ এখন কমজোরি
আর ছেলের হ'ল যাবজ্জীবন।
বৃদ্ধ আমি একা বসে,
এত দিনে বুঝনু শেষে;
আকাশে ভরা মেঘ যে ভাসে।
মোর ঘরেতে আর কোনোদিন
চাঁদ না আসে, রোদ না হাসে।
সাত ফুট বাই আটফুট ঘর আমার
রেল লাইনের পাশে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বাদল দিনে নৌক চলে ......,
শীতের দিনে কাঁপন তোলে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ আমার ব্যস্ত থাকে নানান কাজে,
এক বাড়িতে ঘর মোছে, আর এক খানে বাসন মাজে;
মাঝে মধ্যে পর্টির কাজে সন্ধ্যাবেলায় ভীষন সাজে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
ছেলে আমার লায়েক বড়, পাড়ার দাদার প্রিয়তম
বোমা পিস্তল মেশিন বলো অনেকটা তার খেলনা সম।
সম বচ্ছর ছটি মাসে,
বাঁধাই আছে কারাবাসে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
মেয়ে আমার ষোলোয় প'ল।
তিনটিবার পোয়াতি হ'ল
শেষের সেবার সেই 'দাদা' এসে
হাসপাতালে নিয়ে শেষে;
সাদা কাপড়ে ঢাকা দিয়ে, কাঁচ গাড়ীতে ফিরে আসে।
কেঁদে কেটে দাদা বলে,
যে গেছে সে গেছে চলে।
দশ হাজারে রফা হল অবশেষে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ এখন কমজোরি
আর ছেলের হ'ল যাবজ্জীবন।
বৃদ্ধ আমি একা বসে,
এত দিনে বুঝনু শেষে;
আকাশে ভরা মেঘ যে ভাসে।
মোর ঘরেতে আর কোনোদিন
চাঁদ না আসে, রোদ না হাসে।
16)"""""""" ভালোবাসা """"""""
সেদিন তুমি শুধালে............
'আমি কি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি ?'
আমি নিজেই কি জানি ........
এই বোহেমিয়ান জীবনের ভালোবাসার স্বাদ ?
তোমার কথায় একদিন.........
তোমার ঠোট ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম
ধুমপান দেবো ছেড়ে... কিন্তু আমি পারিনি।
তুমি বললে ...... 'এই তোমার ভালোবাসা ?
আমার জন্য সামান্য একটা সিগারেটও পারো না ছাড়তে ?'
আমি বলি ধুস, আমার দ্বারা কিচ্ছুটি হবে না
আমি এক অকৃতী অধম...।
সামান্য একটা ধুমপানও পারিনা দিতে ছেড়ে.....
তোমার মত সুন্দরীর জন্য...
ধিক শত ধিক মোরে......।
সেদিন আমার চাকরীটা গেল চলে...।
হটাৎ তুমিও চলে গেলে অনেক দূরে
আর কোনদিন বলোনি সিগারেট দিতে ছেড়ে
তাই একদিন সিগারেট ছুয়ে করলাম প্রতিজ্ঞা
তোমাকেই দেবো ছেড়ে...।
কিন্তু তাই বা পারলাম কই?
আজ তুমি কত দূরে......
আমিও তো দিয়েছি ছেড়ে ধুমপান...।
তবু শয়নে স্বপনে কিবা জাগরনে
কেন 'তুমি'ময় আমার তনুমন ?
'আমি কি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি ?'
আমি নিজেই কি জানি ........
এই বোহেমিয়ান জীবনের ভালোবাসার স্বাদ ?
তোমার কথায় একদিন.........
তোমার ঠোট ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম
ধুমপান দেবো ছেড়ে... কিন্তু আমি পারিনি।
তুমি বললে ...... 'এই তোমার ভালোবাসা ?
আমার জন্য সামান্য একটা সিগারেটও পারো না ছাড়তে ?'
আমি বলি ধুস, আমার দ্বারা কিচ্ছুটি হবে না
আমি এক অকৃতী অধম...।
সামান্য একটা ধুমপানও পারিনা দিতে ছেড়ে.....
তোমার মত সুন্দরীর জন্য...
ধিক শত ধিক মোরে......।
সেদিন আমার চাকরীটা গেল চলে...।
হটাৎ তুমিও চলে গেলে অনেক দূরে
আর কোনদিন বলোনি সিগারেট দিতে ছেড়ে
তাই একদিন সিগারেট ছুয়ে করলাম প্রতিজ্ঞা
তোমাকেই দেবো ছেড়ে...।
কিন্তু তাই বা পারলাম কই?
আজ তুমি কত দূরে......
আমিও তো দিয়েছি ছেড়ে ধুমপান...।
তবু শয়নে স্বপনে কিবা জাগরনে
কেন 'তুমি'ময় আমার তনুমন ?
17)“””” বেঁচে থাকার নেশা “”””
মন ভালো নেই, দেহ ভালো নেই,
উপাধানে মাথা রেখে তাকিয়ে দেখি
দেয়ালে জেষ্ঠির বিচিত্র জগৎ।
তবু মনে হয়, ভালোই তো...
অফুরন্ত সময়, অবিরাম বিশ্রাম;
তিক্ত ভেষজের স্বাদে রিক্তোদরে
ঘুম আসে না।
দিবা স্বপ্নে দেখি, না-দেখা জলছবিরা
আমার চারিদিকে করে খেলা।
প্রিয়তমার কোমল হাত, আর ফনিমনসার দল,
অগ্রজের শাসন কিম্বা অনুজের অভিমান,
মিলে মিশে একাকার।
তবু নিন্দিত, তবু ধিকৃত,
তবু একরাশ অসমাপ্ত কাজের তালিকা।
কৃষ্ণ বর্ণ দুরাভাষ ডাক দেয় থেকে থেকে...
আর কতদিন ? আর কতদুর ?
এবার যে যেতে হ’বে... ?
তবু বেঁচে আছি......বেঁচে থাকি
জীবনের এক দুরন্ত নেশায়।
উপাধানে মাথা রেখে তাকিয়ে দেখি
দেয়ালে জেষ্ঠির বিচিত্র জগৎ।
তবু মনে হয়, ভালোই তো...
অফুরন্ত সময়, অবিরাম বিশ্রাম;
তিক্ত ভেষজের স্বাদে রিক্তোদরে
ঘুম আসে না।
দিবা স্বপ্নে দেখি, না-দেখা জলছবিরা
আমার চারিদিকে করে খেলা।
প্রিয়তমার কোমল হাত, আর ফনিমনসার দল,
অগ্রজের শাসন কিম্বা অনুজের অভিমান,
মিলে মিশে একাকার।
তবু নিন্দিত, তবু ধিকৃত,
তবু একরাশ অসমাপ্ত কাজের তালিকা।
কৃষ্ণ বর্ণ দুরাভাষ ডাক দেয় থেকে থেকে...
আর কতদিন ? আর কতদুর ?
এবার যে যেতে হ’বে... ?
তবু বেঁচে আছি......বেঁচে থাকি
জীবনের এক দুরন্ত নেশায়।
18)“তুমি আর আমি”
তোমার জন্য চায়ের কাপে, ঝড় ওঠে,
আমার জন্য তুচ্ছ হাসি, লাল ঠোটে।
তোমার জন্য হোঁচট খায়, ফুটপাতে,
আমার জন্য পথিক চলে, শান্ত পথে।
তোমার জন্য লক্ষ লোকের, দয়ার হাত,
আমার জন্য তারাই করে, কটাক্ষ পাত।
তোমার জন্য সেলফোন বাজে, রাত্রিদিন,
আমার জন্য ল্যান্ডফোনটা, শব্দহীন।
তোমার জন্য ফাইভ স্টারে, ডিনার করা,
আমার জন্য রাধুনী মাসীর পোস্ত বড়া।
তোমার জন্য সারা রাত জাগে, ঝাড়বাতি,
আমার জন্য নিভু নিভু শুধ্ মোমবাতি।
তোমার জন্য “আসুন ম্যাম, বসুন বসুন,”
আমার জন্য “আপনি দাদা, পরে আসুন।”
তোমার জন্য করপোরেটের, ইউরোপ ট্যুর,
আমার জন্য গিরিডি কিম্বা মধুপুর।
(তবু) তোমার জন্য দিনের শেষে, সেই আমি,
আমার জন্য দিনের শেষে, সেই তুমি।
আমার জন্য তুচ্ছ হাসি, লাল ঠোটে।
তোমার জন্য হোঁচট খায়, ফুটপাতে,
আমার জন্য পথিক চলে, শান্ত পথে।
তোমার জন্য লক্ষ লোকের, দয়ার হাত,
আমার জন্য তারাই করে, কটাক্ষ পাত।
তোমার জন্য সেলফোন বাজে, রাত্রিদিন,
আমার জন্য ল্যান্ডফোনটা, শব্দহীন।
তোমার জন্য ফাইভ স্টারে, ডিনার করা,
আমার জন্য রাধুনী মাসীর পোস্ত বড়া।
তোমার জন্য সারা রাত জাগে, ঝাড়বাতি,
আমার জন্য নিভু নিভু শুধ্ মোমবাতি।
তোমার জন্য “আসুন ম্যাম, বসুন বসুন,”
আমার জন্য “আপনি দাদা, পরে আসুন।”
তোমার জন্য করপোরেটের, ইউরোপ ট্যুর,
আমার জন্য গিরিডি কিম্বা মধুপুর।
(তবু) তোমার জন্য দিনের শেষে, সেই আমি,
আমার জন্য দিনের শেষে, সেই তুমি।
19)"""" আমার দুগ্গা পিতিমের মত মা """"
আমি বলতাম,...... মা গো
বোসেদের দুগ্গা পিতিমের চোখদুটো ঠিক যেন তোমার দুটি চোখের মত।
তুমি বলতে,... ছি ! বলতে নেই,
আমি হলুম গিয়ে সাধারন মনিষ্যি, আর ওনারা দেবতা।
মহাষ্টমীতে বোসেদের বাড়িতে লুচি ভোগের কি মিষ্টি সুবাস...
নাঙ্কু, বুচকা, শিউলি ওরা আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খায়...
আমি বলেছিলাম,... মা গো চাইনা আমার নতুন জামা
আমাকে দুটো ঘি-এর লুচি ভেজে খাওয়াবে...?
ঠিক যেমন বোসেদের নাঙ্কু, বুচকা আর শিউলিরা খায়
আর ছিড়ে ছিড়ে রাস্তার কুকুরকে খাওয়ায়?
আমিও কুকুর-কে খাওয়াবো মা......
তুমি বলেছিলে হ্যা বাবা,... নিশ্চই খাওয়াব......
আমি আর লুচি খেতে চাইনি কোনদিন তোমার কাছে।
মাঝ রাতে আমার মদ্যপ বাবা যখন,
তোমার ওপর উগড়ে দিত তার যত বেয়াদপি
তুমি অনেক কষ্টেও এতোটুকু কাঁদোনি,
তুমি জানতে তুমি কাঁদলে যে আমার কষ্ট হয় !
আমি-ও সেদিন কাঁদিনি মা।
বলেছিলাম,... আজ তো আমার বুক-টা খুব ছোট;
যেদিন আমার বুকটা হবে বাবার চেয়েও বড়...
সেদিন দেখো কেউ পাবে না সাহস তোমার গায়ে দিতে হাত...
এই বুক দিয়েই তোমায় রাখব আগলে মাগো।
একদিন সেই বাবাও গেল চলে আমাদের ছেড়ে,
সেদিন তুমি কেঁদেছিলে হাপুস নয়নে......
তারপর কি না করেছ তুমি... শুধু আমার মুখের দিকে চেয়ে ?
দু বেলা বাবুদের বাড়িতে বাসন মেজে.... রান্না করে
ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরটাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে মাঝ রাতে।
আমি তখন ঘুমিয়ে পড়েছি তোমার পথ চেয়ে;
তুমি আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে খাইয়ে দিয়েছ নিজের হাতে।
তারপর আস্তে আস্তে এলো সেই আলোর দিন,
একটা কাকু আসত আমাদের এই বস্তির টালির ঘরে...
আমার জন্য নিয়ে আসতো খেলনা, মিষ্টি, লেবুঞ্চুস...
কি ভাল যে লাগত আমার ঐ কাকুটাকে ...
ওনার কাছেই প্রাথম জানলাম রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নেতাজী সুভাষ......
আস্তে আস্তে তোমার মুখে ফুটল হাসি,
তুমিও কাজ দিলে অনেক কমিয়ে,
একদিন আমাকে লুচি ভেজে দিলে খাইয়ে;
শুনলাম উনি-ই নাকি হবেন আমার নতুন বাবা।
শুনে আমি খুব খুসি, এই বাবা-টা অনেক ভাল,
আমার আগের বাবার মতো চোখ লাল করা, গোমড়া মুখো নয়।
আস্তে আস্তে তোমার মুখে ফুটলো হাসি
তারপর একদিন ভর সন্ধ্যায় আমার নতুন বাবা যখন...
আমাকে পাশে বসিয়ে শোনাচ্ছেন......
"মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি আছ পাল্কীতে মা চড়ে
দরজা দুটো একটু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙ্গা ঘোড়ার পরে
টগ বগিয়ে তোমার পাশে পাশে
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
রাঙ্গা ধুলো মেঘ উড়িয়ে আসে।......"
আর তুমি করছিলে বাবার জন্য চা...
তখনই... ঠিক তখনই পাশের বাড়ির ঝন্টুর মা এল দৌড়ে......
চিৎকার করে পাড়ার সবাইকে ডেকে করলে জড়ো...
হেঁকে বললে...... "এটা ভদ্রলোকের পাড়া,
বেবুস্যেগিরি করার জায়গা এটা নয়।"
পাড়ার সবাই ভেঙ্গে তছ-নচ করলে আমাদের আসবাব হীন ঘরটা;
মেরে ধরে...... বের করে দিলে বাবাকে আর তোমাকে... ।
তার কয়েক ঘন্টা পরেই পাওয়া গেল তোমার ঝুলন্ত নিথর দেহটা...
অন্ধকারে দখিন পাড়ার কাঠাল গাছের ডালে ।
মাগো...... তোমার দুগ্গা পিতিমের মতো চোখ দুটো
তখনও যেন কাকে খুজে চলেছে ।
মাগো.... এখন আমার বুকটা হয়েছে অনেক বড়ো,
আমি এখন আমার বাবাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছি মা।
আর রথের মেলায় তোলা তোমার সেই ছবিটার দিকে
তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি
আজ ও যেন তোমার......দুগ্গা পিতিমের মত চোখ দুটো
কাকে যেন খুজে চলেছ ।
বোসেদের দুগ্গা পিতিমের চোখদুটো ঠিক যেন তোমার দুটি চোখের মত।
তুমি বলতে,... ছি ! বলতে নেই,
আমি হলুম গিয়ে সাধারন মনিষ্যি, আর ওনারা দেবতা।
মহাষ্টমীতে বোসেদের বাড়িতে লুচি ভোগের কি মিষ্টি সুবাস...
নাঙ্কু, বুচকা, শিউলি ওরা আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খায়...
আমি বলেছিলাম,... মা গো চাইনা আমার নতুন জামা
আমাকে দুটো ঘি-এর লুচি ভেজে খাওয়াবে...?
ঠিক যেমন বোসেদের নাঙ্কু, বুচকা আর শিউলিরা খায়
আর ছিড়ে ছিড়ে রাস্তার কুকুরকে খাওয়ায়?
আমিও কুকুর-কে খাওয়াবো মা......
তুমি বলেছিলে হ্যা বাবা,... নিশ্চই খাওয়াব......
আমি আর লুচি খেতে চাইনি কোনদিন তোমার কাছে।
মাঝ রাতে আমার মদ্যপ বাবা যখন,
তোমার ওপর উগড়ে দিত তার যত বেয়াদপি
তুমি অনেক কষ্টেও এতোটুকু কাঁদোনি,
তুমি জানতে তুমি কাঁদলে যে আমার কষ্ট হয় !
আমি-ও সেদিন কাঁদিনি মা।
বলেছিলাম,... আজ তো আমার বুক-টা খুব ছোট;
যেদিন আমার বুকটা হবে বাবার চেয়েও বড়...
সেদিন দেখো কেউ পাবে না সাহস তোমার গায়ে দিতে হাত...
এই বুক দিয়েই তোমায় রাখব আগলে মাগো।
একদিন সেই বাবাও গেল চলে আমাদের ছেড়ে,
সেদিন তুমি কেঁদেছিলে হাপুস নয়নে......
তারপর কি না করেছ তুমি... শুধু আমার মুখের দিকে চেয়ে ?
দু বেলা বাবুদের বাড়িতে বাসন মেজে.... রান্না করে
ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরটাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে মাঝ রাতে।
আমি তখন ঘুমিয়ে পড়েছি তোমার পথ চেয়ে;
তুমি আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে খাইয়ে দিয়েছ নিজের হাতে।
তারপর আস্তে আস্তে এলো সেই আলোর দিন,
একটা কাকু আসত আমাদের এই বস্তির টালির ঘরে...
আমার জন্য নিয়ে আসতো খেলনা, মিষ্টি, লেবুঞ্চুস...
কি ভাল যে লাগত আমার ঐ কাকুটাকে ...
ওনার কাছেই প্রাথম জানলাম রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নেতাজী সুভাষ......
আস্তে আস্তে তোমার মুখে ফুটল হাসি,
তুমিও কাজ দিলে অনেক কমিয়ে,
একদিন আমাকে লুচি ভেজে দিলে খাইয়ে;
শুনলাম উনি-ই নাকি হবেন আমার নতুন বাবা।
শুনে আমি খুব খুসি, এই বাবা-টা অনেক ভাল,
আমার আগের বাবার মতো চোখ লাল করা, গোমড়া মুখো নয়।
আস্তে আস্তে তোমার মুখে ফুটলো হাসি
তারপর একদিন ভর সন্ধ্যায় আমার নতুন বাবা যখন...
আমাকে পাশে বসিয়ে শোনাচ্ছেন......
"মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি আছ পাল্কীতে মা চড়ে
দরজা দুটো একটু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙ্গা ঘোড়ার পরে
টগ বগিয়ে তোমার পাশে পাশে
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
রাঙ্গা ধুলো মেঘ উড়িয়ে আসে।......"
আর তুমি করছিলে বাবার জন্য চা...
তখনই... ঠিক তখনই পাশের বাড়ির ঝন্টুর মা এল দৌড়ে......
চিৎকার করে পাড়ার সবাইকে ডেকে করলে জড়ো...
হেঁকে বললে...... "এটা ভদ্রলোকের পাড়া,
বেবুস্যেগিরি করার জায়গা এটা নয়।"
পাড়ার সবাই ভেঙ্গে তছ-নচ করলে আমাদের আসবাব হীন ঘরটা;
মেরে ধরে...... বের করে দিলে বাবাকে আর তোমাকে... ।
তার কয়েক ঘন্টা পরেই পাওয়া গেল তোমার ঝুলন্ত নিথর দেহটা...
অন্ধকারে দখিন পাড়ার কাঠাল গাছের ডালে ।
মাগো...... তোমার দুগ্গা পিতিমের মতো চোখ দুটো
তখনও যেন কাকে খুজে চলেছে ।
মাগো.... এখন আমার বুকটা হয়েছে অনেক বড়ো,
আমি এখন আমার বাবাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছি মা।
আর রথের মেলায় তোলা তোমার সেই ছবিটার দিকে
তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি
আজ ও যেন তোমার......দুগ্গা পিতিমের মত চোখ দুটো
কাকে যেন খুজে চলেছ ।
20)""""""""রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।""""""""
সাত ফুট বাই আটফুট ঘর আমার
রেল লাইনের পাশে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বাদল দিনে নৌক চলে ......,
শীতের দিনে কাঁপন তোলে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ আমার ব্যস্ত থাকে নানান কাজে,
এক বাড়িতে ঘর মোছে, আর এক খানে বাসন মাজে;
মাঝে মধ্যে পর্টির কাজে সন্ধ্যাবেলায় ভীষন সাজে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
ছেলে আমার লায়েক বড়, পাড়ার দাদার প্রিয়তম
বোমা পিস্তল মেশিন বলো অনেকটা তার খেলনা সম।
সম বচ্ছর ছটি মাসে,
বাঁধাই আছে কারাবাসে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
মেয়ে আমার ষোলোয় প'ল।
তিনটিবার পোয়াতি হ'ল
শেষের সেবার সেই 'দাদা' এসে
হাসপাতালে নিয়ে শেষে;
সাদা কাপড়ে ঢাকা দিয়ে, কাঁচ গাড়ীতে ফিরে আসে।
কেঁদে কেটে দাদা বলে,
যে গেছে সে গেছে চলে।
দশ হাজারে রফা হল অবশেষে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ এখন কমজোরি
আর ছেলের হ'ল জাবজ্জীবন।
বৃদ্ধ আমি একা বসে,
এত দিনে বুঝনু শেষে;
আকাশে ভরা মেঘ যে ভাসে।
মোর ঘরেতে আর কোনোদিন
চাঁদ না আসে, রোদ না হাসে।
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।""""""""
সাত ফুট বাই আটফুট ঘর আমার
রেল লাইনের পাশে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বাদল দিনে নৌক চলে ......,
শীতের দিনে কাঁপন তোলে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ আমার ব্যস্ত থাকে নানান কাজে,
এক বাড়িতে ঘর মোছে, আর এক খানে বাসন মাজে;
মাঝে মধ্যে পর্টির কাজে সন্ধ্যাবেলায় ভীষন সাজে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
ছেলে আমার লায়েক বড়, পাড়ার দাদার প্রিয়তম
বোমা পিস্তল মেশিন বলো অনেকটা তার খেলনা সম।
সম বচ্ছর ছটি মাসে,
বাঁধাই আছে কারাবাসে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
মেয়ে আমার ষোলোয় প'ল।
তিনটিবার পোয়াতি হ'ল
শেষের সেবার সেই 'দাদা' এসে
হাসপাতালে নিয়ে শেষে;
সাদা কাপড়ে ঢাকা দিয়ে, কাঁচ গাড়ীতে ফিরে আসে।
কেঁদে কেটে দাদা বলে,
যে গেছে সে গেছে চলে।
দশ হাজারে রফা হল অবশেষে।
রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।
বউ এখন কমজোরি
আর ছেলের হ'ল জাবজ্জীবন।
বৃদ্ধ আমি একা বসে,
এত দিনে বুঝনু শেষে;
আকাশে ভরা মেঘ যে ভাসে।
মোর ঘরেতে আর কোনোদিন
চাঁদ না আসে, রোদ না হাসে।
20) """" সেলফি """"
ভোরবেলাতে মনের ভেতর উঠল জমে কবিতা
পূব গগনে ঠিক তখনি উঁকি দিচ্ছেন সবিতা।
বিট্টু তখন ছাদে উঠে বলে গলার হাঁক ছাড়ি
"কাছে আয় সবিতা তোকে নিয়ে সেলফি গড়ি।"
এমন সময়ে পাশের ছাদের কিশোরী সে ববিতা
নেচে নেচে গাইতে থাকে রবিবাবুর কবিতা।
বিট্টু যখন সেলফি তোলে,পশ্চাতে তার সবিতা
ফটোয় দেখে সূর্য্য কোথায় ? এ যে দেখি ববিতা
পূব গগনে ঠিক তখনি উঁকি দিচ্ছেন সবিতা।
বিট্টু তখন ছাদে উঠে বলে গলার হাঁক ছাড়ি
"কাছে আয় সবিতা তোকে নিয়ে সেলফি গড়ি।"
এমন সময়ে পাশের ছাদের কিশোরী সে ববিতা
নেচে নেচে গাইতে থাকে রবিবাবুর কবিতা।
বিট্টু যখন সেলফি তোলে,পশ্চাতে তার সবিতা
ফটোয় দেখে সূর্য্য কোথায় ? এ যে দেখি ববিতা
No comments:
Post a Comment